•••তাহাজ্জুদ_নামায_পড়ার_নিয়মঃ-
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর তাহাজ্জুদ নামাজ বাধ্যতামূলক ছিল। তাই তিনি জীবনে কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া থেকে বিরত হননি। তবে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এটা সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা অর্থাৎ এ নামাজ আদায় করলে অশেষ পুণ্য লাভ করা যায়, কিন্তু আদায় করতে না পারলে কোনো গুনাহ হবে না।
◼তাহাজ্জুদ_নামাযের_সময়ঃ-
অর্ধ রাতের পরে। রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের মূল সময় মূলত রাত ২টা থেকে শুরু হয়ে ফজরের আযানের আগ পর্যন্ত থাকে। তবে ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকলে ইশা সালাতের পর পড়ে নেয়া জায়েয আছে।
তবে পরিপূর্ণ তাহাজ্জুতের মর্যাদা পেতে হলে, এশার নামাযের পর ঘুমিয়ে রাত ২টা বা ৩টার দিকে উঠে নামায আদায় করতে হবে।
◼তাহাজ্জুদ_নামাযের_রাকআত_সংখ্যাঃ
সর্বনিম্ন ২ রাকআত। আর সর্বোচ্চ ৮ রাকআত পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের
৮ রাকাত নামায আদায় করার পরে, বিতর ৩ রাকাত বা ১ রাকাত নামায পড়া। অধিক উত্তম ১ রাকাত বিতর সালাত পড়া। রাসুল (সাঃ) তাহাজ্জুদের নামায বেশিরভাগ সময় ৮ রাকাত পরতেন এবং এর পর বিতরের
নামায পরে মোট ১১রাকাত পূর্ণ করতেন।
১। তাহাজ্জুদ নামায বিতরসহ ১৩, ১১, ৯ কিংবা ৭ রাকাত পড়া যায় (বুখারী, মুসলিম,মেশকাত ১০৬ পৃঃ)
২। প্রথমে দু’রাকাত ছোট ছোট সূরা মিলিয়ে হালকাভাবে পড়ে আরম্ভ
করবে (মুসলিম, মেশকাত ১০৬ পৃঃ)
৩। অতঃপর দু’রাকাত করে, তাহাজ্জুদের নামায সাত রাকাত পড়তে চাইলে
দু’সালামে চার রাকাত পড়ে তিন রাকাত বিতর পড়বে । (বুখারী, মেশকাত
১০৬ পৃঃ)
বিঃদ্রঃ- যদি এশার নামায পরে বিতরের নামায পড়ে থাকেন, তবে তাহাজ্জুত
নামায পড়ার পড়ে বিতর নামায পড়ার দরকার নেই। তখন ২ রাকাত থেকে শুরু
করে ৮ রাকাত তাহাজ্জুত নামায পরলেই হবে।
◼তাহাজ্জুদ_নামাযের_আগে_করণীয়ঃ
হুযাইফা (রাযিঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) যখন তাহাজ্জুদ পড়তে উঠতেন তখন মিসওয়াক করতেন এবং আমাদেরকেও মিসওয়াক করার হুকুম দেয়া হত, আমরা যখন তাহাজ্জুদ পড়তে উঠতাম, অতঃপর নবী (সাঃ) অযু করতেন (মুসলিম) । তারপর নীচের দু’আ ও তাসবীহগুলি দশবার করে পড়তেন ।
তারপর নামায শুরু করতেন (আবু দাউদ, মেশকাত ১০৮ পৃঃ)
(১) দশবার “আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ)
(২) দশবার আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যই)
(৩) দশবার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী (আমি আল্লাহ প্রশংসার সাথে তাঁর
পবিত্রতা ঘোষনা করছি)
(৪) দশবার সুবহানাল মালিকিল কদ্দুস (আমি মহা পবিত্র মালিকের গুণগান করছি)
(৫) দশবার আসতাগফিরুলাহ (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করছি)
(৬) দশবার লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু (আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কেউ
নেই)
(৭) দশবার আল্লহুম্মা ইন্নি আউযুকিকা মিন দীক্কিদ্দুনিয়া ওয়া দীক্কি ইয়াওমিল ক্কিয়ামাহ।( হে আল্লাহ! আমি এই জগতের এবং পরকালের সঙ্কট থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)
☞তাহাজ্জুদ_পড়ার_নিয়মঃ
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত ;
নিয়ত হলো মনের বিষয়,মুখে উচ্চারণ করার দরকার নেই।
যে কোনো নামাজের নির্দিষ্ট নিয়ত আরবি - বাংলা পরতে হবে এগুলো বিদাত।
নিজের মনে বলবেন যে -
আমি দুই রাকাআত তাহাজ্জুদের সুন্নত নামাজ পড়বার নিয়ত করছি.. অতঃপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ আরম্ভ করবেন।
তাহাজ্জুদ নামায পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন সূরা নেই। যে কোন সূরা দিয়েই এই নামায আদায় করা যাবে। তবে যদি বড় সূরা বা আয়াত মুখস্ত থাকে তবে, সেগুলো দিয়ে পড়াই উত্তম। কারন রাসুল (সাঃ) সব সময় বড় বড় সূরা দিয়ে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করতেন। তাই আমাদেরও বড় সূরা মুখস্ত
করে, তা দিয়ে তাহাজ্জুত নামাদ আদায় করা উচিৎ।
যাইহোক, বড় সূরা মুখুস্ত না থাকলে যে কোন সূরা দিয়েই নামায আদায়
করা যাবে। নিয়ম হল ২রাকাত করে করে, এই নামায আদায় করা। প্রত্যেক
রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর, অন্য যে কোন সূরা মিলানো। এভাবেই নামায আদায় করতে হবে।
আল্লাহ, আমাদের সবাইকে তাহাজ্জুদের পরিপূর্ণ মর্যাদা লাভ করার তৌফিক
দান করুন।
আমিন।🌸🥀
কপি
0 Comments